নতুন সরকারের প্রধান কাজের একটি প্রতিশ্রুতি হলো ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হয়ে যারা দূর্নীতি, লুটপাট ও অনিয়ম করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সরকার গঠনের পর প্রথমেই বড় সরকারি দফতরের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার দখল করা দূর্নীতির বরপুত্রদের বিরুদ্ধে বিশেষ নজর দেবেন বলে জানাগেছে।
সম্প্রতি আলোচনায় আসা ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৪ এর নির্বাহীপ্রকৌশলী সা'দ মোহাম্মদ আন্দালিব । গণপূর্তের মত গুরুত্বপূর্ণ দফতরে মহান এই সাধুপুরুষ তার কৃতকর্মের জন্য কি ধরনের পুরস্কার পেতে পারেন এ নিয়ে রয়েছ নানা জল্পনা কল্পনা । তার বিরুদ্ধে নামে বেনামে অঢেল সম্পদ অর্জন করার যে অভিযোগ রয়েছে এক্ষেত্রে দূদক কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে তাও প্রশ্নবোধক বিষয়। ধানমন্ডি লেকপাড় কলাবাগানে তার রয়েছে বিলাসবহুল ফ্লাট। দূদক তার বিষয়ে তদন্ত করলেই তিনি আলাদিনের চেরাগ কখন কিভাবে ব্যবহার শুরু করেছেন তা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করে সচেতন মহল। গুঞ্জন রয়েছে, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অতি আস্থাভাজন হিসেবেও এই গুণী ব্যাক্তির ছিল বিস্তর সুনাম।
অনেক মহান কাজে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন, নিজের বদলি ঠেকাতে সেতু মন্ত্রীর স্বাক্ষরযুক্ত প্যাডে ডিও লেটার কান্ডের অভিযোগ, যা জানাজানি হওয়ার পরও এই প্রকৌশলীকে যথাযথ পুরুষ্কার দেওয়া হয়নি। এমন মহান কাজের কীর্তি অধিদপ্তরের সেসময়কার একজন প্রধান প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে ধামাচাপা দেওয়ার কথা ওঠে। যদিও এনিয়ে গণমাধ্যমে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। অস্বীকারের পরে এই কীর্তিকর্ম ডিও লেটার কীভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এলো, কিংবা কারা এই কর্মের সাথে সম্পৃক্ত সেই বিষয়ে হয়তো বা নতুন সরকার যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আলোচিত মহান কাজের প্রমাণ বের করে তাকে পুরুস্কার থেকে বঞ্চিত করবে না।
তার সাধুকর্ম সম্পর্কে জানলে অনেকের হয়তো চোখ কপালে ওঠার অবস্থা হবে। তাকে নিয়ে সুমাম রয়েছে যে, তিনি নোয়াখালী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় ঠিকাদারের কাছ থেকে সেলামি নিয়ে ডিপিপি ও আরডিপিপি'র অঙ্গ ভিত্তিক মূল্য অপেক্ষা বড় অঙ্কের মূল্যের কার্যাদেশ প্রদান করেছিলেন। অন্যদিকে বিভিন্ন কাজের চুক্তিমুল্যের উপর ঠিকাদারী ইনস্যুরেন্স না করায় ইনস্যুরেন্স বাবদ সরকারের মোটা অংকের ভ্যাট বা রাজস্ব ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নোয়াখালী থেকে ফেনী গণপূর্ত বিভাগে বদলি প্রজ্ঞাপন জারির পর বদলি ঠেকাতে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির প্যাডে স্বাক্ষরযুক্ত একটি মহান ডিও লেটার তৈরি করে তা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে বদলি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তার মহত কাজের সেসময়কার প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের স্বাক্ষরিত আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তার ওই বদলির প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ওই ডিও লেটারটি মহান যোগ্যতায় আবিস্কৃত বলে প্রকাশ পায়।প্রেরিত চিঠিতে সেসময়কার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে বদলি সংক্রান্ত আদেশটি বাতিল করে তাকে স্বপদে বহাল রাখার জন্য সহযোগিতা কামনা করেছিলেন যা দূদকে তদন্ত করা প্রয়োজন। পত্রে ডিও নম্বর ছিলো ৩৫.০০.০০০০.০০১.৯৯.০০২.২৪-৯৭ উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো স্মারক নাম্বার উল্লেখ ছিলো না। বহু কীর্তিকাহিনীর পর মহান এই ডিও লেটারের গোমর ফাঁস হলে সা’দ মোহাম্মদ আন্দালিবকে সেসময়কার প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নোয়াখালী থেকে লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হয়েছিলো। কিন্তু মাত্র চার মাস পর তিনি আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্তে বদলি হয়ে এসেছিলেন।
দূদকে তদন্ত করে দেরিতে হলেও যেসব বিষয়ে তার প্রাপ্য পুরষ্কার দেওয়া প্রয়োজন তা হচ্ছে, নোয়াখালী গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য জেলার ৪৮টি স্থাপনার ৬৮টি কাজ পুরো সম্পন হওয়ার আগে টাকা তুলে নেওয়া প্রসঙ্গ,জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্তূপ করে রাখা ময়লা অপসারণের খাতে কাজ না করে ব্যায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গ,
পরিত্যক্ত ঘোষণা করা নোয়াখালী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন ও বিভাগীয় প্রকৌশলীর বাসভবন মেরামত কান্ড সহ সার্কিট হাউজ, গণপূর্তের বিভিন্ন বিভাগ, উপ-বিভাগ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের কাজ, মাতৃদুগ্ধপান স্থাপন, অজুখানা নির্মাণ ও এ ধরনের বিভিন্ন কাজ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, গণপূর্ত বিভাগীয় কার্যালয়, আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ, জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়,পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা কারাগার, পাসপোর্ট কার্যালয়, সদর পৌর বাজার ও সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিস, জেলা চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের কাজ, স্বাস্থ্যখাতের মেরামত। দূদক ও বর্তমান সরকারের উচিত তদন্ত করে তাকে তার প্রাপ্য স্থানে অধিষ্ঠিত করা ।
অন্যদিকে লালমনিরহাট এলাকায় কর্মকলীন সময়ে তার বিরুদ্ধে মডেল মসজিদ করার ক্ষেত্রে টেন্ডার ও নির্মানে ঠিকাদারের সাথে অনিয়ম দূর্নীতি করার অভিযোগ ছিলো। এছাড়া ঘুস চাওয়ার অভিযোগে ওমর সাহেদ রিশাদ নামে এক ঠিকাদার সা'দ মোহাম্মদ আন্দালিবের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন বলে জানাগেছে।
এসব বিষয়ে সা'দ মোহাম্মদ আন্দালিবের সাথে তার মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো দূর্নীতি অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন না বা এখোনো জড়িত নন বলে মতামত প্রকাশ করেন। এছাড়া তাকে নিয়ে যে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের কথা বলা হয়েছে তা তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বলে তিনি দাবী করেন। ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল -৪ একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্কেল। এ সার্কেলে বর্তমানে বড়বড় প্রজেক্ট রয়েছে। যে প্রজেক্টের মধু খাওয়ার জন্যই এই নির্বাহী প্রকৌশলী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় বদলি হয়ে আসেন।
তাকে নিয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। সবিস্তারে প্রতিবেদন আসছে সিগ্রই।