দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমতা অক্ষুণ্ন রেখেই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশ ও জনগণের স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তাছাড়া দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার কথা বলেছেন তিনি।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে কোরাআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়।
‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এ নির্বাচনি ইশতেহার সাজানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি সংক্ষেপে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমার দেশের স্বার্থ, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে যাদের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের দেশে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠিত করতে পারব, আমার দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করতে পারব।
“পাশাপাশি অবশ্যই আমার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখবে…এইটার ভিত্তিতেই আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত করব।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “অর্থাৎ আমার দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করে, আমার দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখেই আমাদের সাথে যাদের যাদের বন্ধুত্ব করা সম্ভব, অবশ্যই আমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবো।”
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চাই’ তারেক রহমান বলেন, “আমাদের সামনে একটি বিরাট, প্রশাসনের একটি বিরাট সমস্যা আছে, একটি মানবিক সমস্যা…সেটি আমরা সকলেই জানি। সেটি হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা, যেটি আছে। আমাদের নিজের দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এই জনসংখ্যার কর্মসংস্থান ব্যবস্থা, খাদ্যের সংস্থান, চিকিৎসা ব্যবস্থা সকল কিছু করতে হবে।
“আমাদের প্রায় ১ দশমিক ২ মিলিয়ন এর মতো রোহিঙ্গা আছে। তারাও মানুষ, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অবশ্যই তাদের দেশে যে অবস্থা, আমরা এখানে বাংলাদেশ তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে। অবশ্যই আমরা তাদেরকে দেখবো। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা চাইবো যে, তাদের এলাকায় তাদের ঘরে তাদের জন্য নিরাপদ একটা পরিস্থিতি তৈরি হোক এবং ধীরে ধীরে তারা তাদের এলাকায় ফিরে যাক। অর্থাৎ আমরা রোহিঙ্গা নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চাই।”
‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান চাই’ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে টানাপড়েন চলছে।
সে প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের পদ্মা নদী, তিস্তা নদীসহ বিভিন্ন নদীর পানির বণ্টনে আমাদের কিছু অসুবিধা আছে। আমরা চাই যাদের সাথে আমাদের এই অসুবিধা আছে তাদের সাথে বসে আলোচনা করে আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে চাই।
“যাতে আমার দেশের মানুষ তার পানির ন্যায্য হিসাব পেতে পারে।” প্রবাসীদের দিকে নজর দিতে হবে’ তারেক রহমান বলেন, “আমরা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় করার মাধ্যমে আমাদের যে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বিদেশে আছেন, তারা যাতে আরো বেটারভাবে ট্রিটেড হন, সেই বিষয়ে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই।
“আমাদের যে বিভিন্ন দূতাবাসগুলো আছে সেগুলোকে মোর মডার্নাইজ এবং মোর অ্যাকটিভ করার মাধ্যমে এটা করতে হবে।”
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপি বলছে, “এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।”
নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, দলটি সরকার গঠন করলে বিদেশে নতুন বাজার অনুসন্ধান, সীমান্ত নিরাপত্তা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।
এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, সফট পাওয়ার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কুটনীতিতে গুরুত্ব প্রদান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থনৈতিক কুটনীতিরও গুরুত্ব প্রদান প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হয় স্পষ্টভাবে।
অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কুটনীতিরা উপস্থিত ছিলেন।