• ঢাকা
  • শুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ভোর ০৪:৩২
শিরোনাম
হোম / উপসম্পাদকীয়
রিপোর্টার : সৈয়দ এরশাদ আহমেদ:
রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বহুমুখীকরণে নতুন আশা

রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বহুমুখীকরণে নতুন আশা

প্রিন্ট ভিউ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত বাণিজ্য সমঝোতাকে (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) অনেকেই শুল্কহার ও বাজার প্রবেশাধিকারের হিসাবেই দেখছেন। কিন্তু বাস্তবে এটি কেবল একটি বাজার সুরক্ষা উদ্যোগ নয়; বরং এটি হতে পারে আস্থানির্ভর নতুন প্রবৃদ্ধির সূচনা। এমন এক সময়ে এই সমঝোতা এসেছে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা, পাল্টা শুল্ক এবং নীতিগত অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক সমঝোতা একটি স্পষ্ট ও ইতিবাচক বার্তা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। নতুন এই কাঠামোর আওতায় ১৯ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ রপ্তানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্বানুমেয়তা নিশ্চিত করেছে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বানুমেয় নীতিকাঠামোই আস্থার ভিত্তি। এই সমঝোতা সেই আস্থাকেই শক্তিশালী করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

এই সমঝোতার একটি বিশেষ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল বা উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য শূন্য শুল্ক সুবিধা। এটি বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। এর মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খলে গভীর সংযুক্তি, অধিক মূল্য সংযোজন এবং যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক ও বাংলাদেশের নির্মাতাদের মধ্যে শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘ মেয়াদে এই ধারা বাংলাদেশের শিল্পকাঠামোকে আরো পরিণত ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।

একই সঙ্গে বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রক স্বচ্ছতা জোরদার এবং মানদণ্ডের সামঞ্জস্যসাধনে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক ব্যাবসায়িক মহলে আস্থা বাড়াবে। বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, এসব সংস্কার কেবল বিদেশি অংশীদারদের জন্য নয়, দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ব্যবসার ব্যয় কমায়, দক্ষতা বাড়ায় এবং ভোক্তাদের জন্য মানসম্মত পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করে। আধুনিক বাণিজ্যকাঠামো মূলত শুল্কের বাইরেই তার প্রকৃত মূল্য সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র চেম্বার হিসেবে অ্যামচেম সব সময়ই সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ সংলাপের ওপর জোর দিয়ে এসেছে।

এই সমঝোতা প্রমাণ করে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাস্তবসম্মত আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব। এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুমুখীকরণের একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।

তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছুর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। নিয়ম-কানুনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা, ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—এ তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ই এই সমঝোতাকে বাস্তব সুফলে রূপ দিতে পারে।

লেখক : কলাম লেখক, ব্যবসায়ী সংগঠক, সভাপতি, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)

মতামত

আরও পড়ুন