যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের একটি বিশাল ‘নৌবহর’ এখন ইরানের দিকে যাচ্ছে। আশা করি, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। যদি চুক্তি হয়, তবে ভালো, আর না হলে কী হয়, তা দেখা যাবে।’
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি না হয়ে ইরান বরং আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইবে। তবে তেহরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডার নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা হবে না।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এটুকু বলতে পারি, তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়।’
ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি দিয়েছি।’ তবে সেই সময়সীমা ঠিক কবে, তা তিনি প্রকাশ করতে রাজি হননি।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা আশা করি, যা–ই ঘটুক না কেন, তা যেন স্থিতিশীলতা বয়ে আনে। ইরানিরা সঠিক কাজটি করলে এই ফলাফল অর্জন সম্ভব এবং আমরা সেটিই আশা করছি।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে ‘কখনোই’ আলোচনার টেবিলে বসা হবে না। তেহরান সমমর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত থাকলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।
পশ্চিমাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানে সর্বশেষ বিক্ষোভে ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সরকারের হিসাবমতে, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
তেহরান কিছু বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটিকে ট্রাম্প তেহরানের আলোচনার প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ওই অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, ইরানের ওপর যেকোনো মার্কিন হামলা অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।