• ঢাকা
  • রবিবার , ৫ জুলাই ২০২৬ , রাত ১১:৩৯
শিরোনাম
হোম / অন্যান্য
রিপোর্টার : নিজস্ব সংবাদদাতা
বগুড়ার টিটু মিলনায়তনে প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ থাকার বৈজ্ঞানিক কৌশল তুলে ধরলেন প্রফেসর ড. মজিবুল হক

বগুড়ার টিটু মিলনায়তনে প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ থাকার বৈজ্ঞানিক কৌশল তুলে ধরলেন প্রফেসর ড. মজিবুল হক

প্রিন্ট ভিউ

সঠিক খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং বৈজ্ঞানিক প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমিয়ে সুস্থ জীবন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে "সায়েন্টিফিক হেলথ সেমিনার ২০২৬"। আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার আয়োজিত এ সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসা গবেষক, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (WUST)-এর ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের অধ্যাপক, দ্য সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন, যুক্তরাষ্ট্র-এর কনসালট্যান্ট এবং আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মজিবুল হক, PhD, ND।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এম আর ইসলাম স্বাধীন, প্রশাসক, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শহীদুজ্জামান, FM এক্সপার্ট, কৃষি মন্ত্রনালয়, সাবেক যুগ্মসচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ মাহবুবুল হক, চেয়ারম্যান, আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার এবং সাবেক সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

প্রফেসর ড. মজিবুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করার ফলে শরীরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর শুধু ওষুধের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। অথচ রোগের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত না করে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সুস্থতা অর্জন করা সম্ভব হয় না।

প্রফেসর ড. মজিবুল হক বলেন, "শুধু ওষুধ দিয়ে রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই রোগের মূল কারণ দূর করা যায় না। প্রকৃত সুস্থতা অর্জনের জন্য রোগের মূল কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।"

তিনি তাঁর বক্তব্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত খাদ্যাভ্যাস, জীবনধারার পরিবর্তন এবং সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার জন্য বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি এম আর ইসলাম স্বাধীন  তাঁর বক্তব্যে বলেন, "স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। প্রতিটি মানুষই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায়, আর সেই সুস্থতা নিশ্চিত করতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রয়োজন। এ ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সেমিনার মানুষের মধ্যে সঠিক স্বাস্থ্যজ্ঞান ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, বগুড়াবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য সেমিনার ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে আয়োজন করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সেমিনারের উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি, হরমোনজনিত সমস্যা, ভিটামিনের ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। প্রফেসর ড. মজিবুল হক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা নির্দেশিকার ভিত্তিতে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণের পরামর্শ প্রদান করেন।

অন্যান্য

আরও পড়ুন