আমরা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত সেই বিখ্যাত বেতার ভাষণের কথা স্মরণ করছি, যা জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিল,” বলা হয় বার্তায়।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্কীর দিনে একটি বার্তা দিয়েছে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন, যেখানে একাত্তরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির বেতার ভাষণের কথাও ‘স্মরণ’ করা হয়েছে।
শনিবার ভারতের হাই কমিশনের ফেইসবুক পেইজে এ বার্তা দেওয়া হয়, যেটি ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও লেখা ছিল।
হাই কমিশন লিখেছে, “আজ বাংলাদেশের জনগণ যখন জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম-এর স্মরণে সমবেত হয়েছে, তখন আমরা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত সেই বিখ্যাত বেতার ভাষণের কথা স্মরণ করছি, যা জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিল, নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথে তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছিল এবং জাতীয় মুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।”
হাই কমিশন লিখেছেন, আজও তখনকার মতোই, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অভিন্ন আত্মত্যাগের এক গৌরবগাথা এবং উভয় দেশের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন যাত্রায় পাশে রয়েছে।
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের সংগঠক বেলাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র’।
বেলাল মোহাম্মদ তার ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ গ্রন্থে দাবি করেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এরপর ২৭ ও ২৮ মার্চ সেসময়ের মেজর জিয়াউর রহমান স্থানীয় নেতাদের অনুরোধে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেছিলেন।
ঘোষণাপত্র পাঠ করায় বিএনপি জিয়াকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে দাবি করে। কিন্তু আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। এরপর সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান।
ওই বছরের ৭ নভেম্বর ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লবের’ পর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এএসএম সায়েমের নেতৃত্বে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে জিয়া ক্ষমতা গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ১৯৭৮ সালের ২১ এপ্রিল।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামে এক দল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন জিয়া। বিএনপি দিনটি তার ‘শাহাদত দিবস’ হিসেবে পালন করে।
এবারও প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করছে দলটি। সেই কর্মসূচি পালনের মধ্যে ভারতের তরফ থেকে ‘অভিন্ন যাত্রায়’ পাশে থাকার বার্তা এল।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের তরফে বলা হয়, তারা সম্পর্কোন্নয়নে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায়।
এর মধ্যে গেল ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্যে দিয়ে নয়াদিল্লির সেই মনোভাব দৃশ্যমান হতে থাকে।
ভোটগ্রহণের পরের দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তারেক রহমানকে এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার পর তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ওই ফোনালাপে তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তার কাজে সমর্থনের দেওয়ার কথা বলেন।
অন্যদিকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা। তবে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে তিনি শপথ অনুষ্ঠাতে আসতে পারবেন না বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়। তবে মোদীর পরিবর্তে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
অন্যদিকে গেল মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনে মোদীর দল- ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিজয়ে অভিনন্দন জানানো হয় বিএনপির তরফে।