যশোর জেলার সন্তান মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ গাজীর এই সপ্তাহে ছিল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা। সেই হিসেবে ২ জুন রাতে দেশের মাটিতে পা রাখেন তিনি । তাকে বিমান বন্দর থেকে রিসিভ করেন তার মমতাময়ী মা, ছোট ভাই, বড় বোন ও বোনের ছোট দুই সন্তান। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে মা ভাই বোন আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠে। গভীর রাতেই প্রাইভেট কার যোগে গ্ৰামের বাড়ি যশোর জেলার ঝিকরগাছি উপজেলায় উজ্জ্বলপুর গ্ৰামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তারা।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আরিফ গাজী দেশের মাটিতে পা রাখলেও লাশ হয়ে ফিরলেন নিজ বাড়িতে। সাথে নিয়ে গেলেন মা, ছোট ভাই, বোনকে। পৃথিবীতে রেখে গেছেন জন্মদাতা পিতা শহিদুল গাজীকে। তিনি দুর্ঘটনার সংবাদ শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন।
মঙ্গলবার (০২ জুন) গভীর রাতে আরিফ গাজীর পরিবার বহনকারী প্রাইভেট কারটি ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়। পথিমধ্যে ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসের ভাঙ্গার মালিগ্রাম সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায় প্রাইভেট কারটি। সেসময় বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস ভর্তি একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারটি ধাক্কা খায। মুহূর্তেই প্রবাসী আরিফ গাজী সহ একই পরিবারের চারজন ও প্রাইভেট কারের চালক সহ মোট পাঁচ জন নিহত হয়। এছাড়াও আরও ২ জন গুরুতর আহত হয়।
নিহতরা হলো , যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্ৰামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ গাজী (২৫) তার মা ইউপি সদস্য নুরজাহান বেগম (৫০), ছোট ভাই রাকিব গাজী (১৮), বড় বোন আয়শা বেগম (২৮) ও মনিরামপুর থানার রাজগঞ্জ গ্ৰামের প্রাইভেট কারের চালক জাহিদ হোসেন (২৫)।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলো আরিফ গাজী ভাগ্নে আশরাফুল হোসেন (৭), তাছফিয়া (৩)। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরিফ গাজীর বড় বোন জামাতা ইলিয়াস হোসেন জানান, অল্প বয়সে আরিফ গাজী মালয়শিয়া চলে যায়। দীর্ঘ ১১ বছর ১৭ দিন পর দেশে আসছে বিবাহ করার জন্য। সামনের সপ্তাহে পাশের গ্ৰামের জনৈক একটি মেয়ের সাথে তার বিবাহ ঠিক করা হয়েছে। অতি সাধারণ ঘর থেকে আমার শ্যালক আজ একটা পর্যায়ে এসেছে। আল্লাহ আমাদের পরিবারের বেঁচে থাকা সকলকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।
এবিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মালীগ্ৰাম বাসস্ট্যান্ডে গ্যাস ভর্তি দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিকল ট্রাকের পেছনে যশোর গামী একটি দ্রুতগামী প্রাইভেট কার সজোরে ধাক্কা খায। এতে প্রাইভেট কারটি দুমড়ে মুচড়ে ট্রাকের পেছন দিকে ঢুকে যায়। প্রাইভেট কারের মধ্যে থাকা চালক সহ ৭ জনই আটকে যায়।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। অনেক কাঁটা ছেঁড়া করে ভেতর থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হলে সেখানে আরিফ গাজীর ছোট ভাই রাকিব গাজী মারা যায়।দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক ও প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে।
ভাঙ্গা ফায়ার স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, ভোর সাড়ে চারটার দিকে সংবাদ পেয়ে আমরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাইভেট কারের চালক ও যাত্রীদের উদ্ধার করি। এসময় প্রাইভেট কারের চালক প্রাইভেট কার সহ ট্রাকের পেছনে আটকে ছিল। পরবর্তীতে প্রাইভেট কারটি কিছু অংশ কেটে চালককের লাশ উদ্ধার করা হয়।