• ঢাকা
  • শনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , সকাল ০৬:২৩
শিরোনাম
হোম / রাজনীতি
রিপোর্টার : মোঃ আল-আমীন চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি
আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, সফল করেই বিরোধী দল ঘরে ফিরবে: শফিকুর রহমান

আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, সফল করেই বিরোধী দল ঘরে ফিরবে: শফিকুর রহমান

প্রিন্ট ভিউ

জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সারা দেশে এখন আন্দোলন চলছে। শুরু হবে কি, শুরু তো হয়েই গেছে। এখন তিলে তিলে সেই আন্দোলনকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।’

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হল মিলনায়তনে এক সেমিনারে শফিকুর রহমান এ কথাগুলো বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১-দলীয় ঐক্য।

রাজপথের আন্দোলন সফল করেই বিরোধী দল ঘরে ফিরবে বলে হুঁশিয়ারি দেন শফিকুর রহমান। তিনি এই আন্দোলনে দেশবাসীকে পাশে চান।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, চিফ হুইপ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রোডাক্ট (জুলাই আন্দোলনের ফসল) বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জুলাই আছে আমরা আছি, জুলাই আছে সরকার আছে, জুলাই আছে বিরোধী দল আছে, জুলাই নাই কিছুই নাই। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না ইনশা আল্লাহ। গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমেই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ইনশা আল্লাহ বাস্তবায়ন হবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের দেশে বিশেষ করে পার্লামেন্টে যাদের নাড়াচাড়া দেখেন, প্রশ্ন আসে কে দড়ি টানে? সেই দড়িটা কোথা থেকে টান দেওয়া হয় জাতি বুঝে।...ওই ঘুড়ির নাটাইটা কোথায়। ওখান থেকেই এটা নাড়াচাড়া করা হচ্ছে। এ জন্যই অস্থিরতা। এক সময় গণভোট হারাম, আরেক সময় না, এটা অর্ধেক হালাল। একসময় একই অর্ডারের গোশত হালাল, কিন্তু ঝোলটা তার হারাম।’

সংসদ অধিবেশন নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরাও সমানতালে চালিয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। সুযোগ পাই, না পাই, আমরা কণ্ঠ বন্ধ করিনি।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘এই সংসদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা সেখানে যাচ্ছি না। অনেক সুবিধা আছে স্বেচ্ছায়, অবলীলায় ছেড়ে দিন, নেবই না। যেটা না নিয়ে পারব না, সেটা নেব। বাধ্য হব যেটাতে। অবৈধ কোনো দিকে আমাদের চোখ ও হাত যাবে না।’

অধিকারের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে যত দিন সংসদে থাকা প্রয়োজন, বিরোধী দল তত দিন থাকবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, যখন বিরোধী দলের আর কিছু করার থাকবে না, তখন সংসদ থেকে চলে যাবে। তবে এর আগে সংসদে কারও জমিদারি মানা হবে না।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের কারও গোলাম বানাতে চাই না এবং কারও পারিবারিক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে চলবে জাতির ওপর ফ্যাসিজম হিসেবে তা–ও আমরা বরদাশত করব না। রাজনীতির এই দুষ্ট চক্র ভেঙে দিতে হবে।’

সংসদে ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আগে সংসদে দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারি দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা হতো। এখন সংসদে তাদের কয়েকজন বর্তমান বিরোধী দলকে লক্ষ করে একই রকম কথা বলা শুরু করেছে। তাদের জিহ্বা সংযত করতে হবে। জুলাই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারও চোখ রাঙানিতে ভয় পায় না। অতীতে যারা এমন আচরণ করেছে, তাদের পরিণতি চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছে। অপকর্ম করলে আগেরটার চাইতে পরের পরিণতি আরও ভয়ংকর হবে।

জাতীয়

রাজনীতি

আরও পড়ুন