• ঢাকা
  • রবিবার , ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , রাত ০৩:৫৬
শিরোনাম
হোম / সারাদেশ
রিপোর্টার :
আখাউড়ায় পৌরশহরে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ, নেই কোন  কার্যকর পদক্ষেপ

আখাউড়ায় পৌরশহরে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ, নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ

প্রিন্ট ভিউ

আশীষ সাহা আখাউড়া প্রতিনিধি: আখাউড়া পৌরশহরে ময়লা আবর্জনা স্তূপের জন্য প্রতিটি মহল্লায় পথচারীদের চলাচলের যেনো এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ায় পৌরশহরের এলাকায়  মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও ঠিকভাবে দাঁড়ানো যায় না। মুহূর্তের মধ্যেই ঘিরে ধরে মশা। এক জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেন না কেউই। মশার কামড়ে রীতিমতো ছটফট করতে হয় ভুক্তভোগীদের। পুরো উপজেলা ঘিরেই মশার দখলে। এমনকি আখাউড়া  রেলস্টেশনে  যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনা প্লাটফর্মে  ভেতরেও একটু শান্তিতে বসতে পারেন না। অনেক সময় দেখা যায়, যাত্রীর সঙ্গে মশা 

ট্রেনে মধ্যে ঢুকে পড়ছে। তাই বাধ্য হয়ে অনেক যাএীরা মশা মারার ব্যাট ব্যবহার করেন। তাতেও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

প্লাটফর্মে নিয়মিত চলাচলের যাএীদের কাছ থেকে জানা যায় যে, স্টেশনে হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। তাদের ছাড়াও কর্মরত সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ।

ঢাকাগামী যাত্রী মো: আবদুল আজিজ  ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ,এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে স্বস্তিতে বসা যায়। মশার উপদ্রবে সবাই অতিষ্ঠ।আজ মহানগর এক্সপ্রেস প্রায় ৪ ঘন্টা বিলম্ব এসেছে আখাউড়া রেলস্টেশনে কিন্তু মশার নিধন করার পরিবেশ মনে হয় এ এলাকায় নেই, এর জন্য আমরা দীর্ঘ সময় মশার কামড়ে অতিষ্ঠ  হয়েছিলাম। আমরা চাই আপনাদের লেখনীয় মাধ্যমে যেনো এ এলাকায় মশার নিধন করেন,এতে আমাদের মতো যাএীদের অন্তত লাগাম হবে মশার কামড়ে থেকে। 

পৌরশহরে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আমাদের আখাউড়ায় আশপাশের পুরো এলাকায় মশার চরম উপদ্রব রয়েছে। পৌরসভার লোকজনকে বারবার বলা হলেও তারা নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটায় না। ফলে এখানে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস হওয়ার পরিবর্তে লার্ভা সৃষ্টি হয় বেশি। 

রাজশাহী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আশরাফুল ইসলাম। পরিবার থাকেন এ উপজেলায়। তিনি কয়েক মাসে পর পর  বাড়িতে যেতে হয় তার। তিনি বেশিরভাগ সময় ট্রেনে  চলাচল করেন। তিনি বলেন আমি বাড়িতে এসে বাইরে দাঁড়ানো যায় না; দাঁড়ালেই মশা চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। বেশিরভাগ সময়ই যন্ত্রণা ভুগতে হয় মশার কামড়ে। আর স্প্রে করার পরেও মশা যায় না।

নুরুন্নাহার বলেন,এ রেলস্টেশনে আমার  আত্মীয়দের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে যতক্ষণ অপেক্ষা করি, ততক্ষণই অশান্তির মধ্যে কাটে। মশার যন্ত্রণায় দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা খুবই কষ্টসাধ্য। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এখানকার ব্যবস্থাপনা খুবই খারাপ; দেখার কি কেউ নেই?

মো: আবদুল আলীম বলেন, আমি তরকারি বাজারে গিয়েছিলাম সবজি কিনতে যেহেতু সামনে রোজা কিন্তু মশার কামড়ের জন্য আমি অতিষ্ঠ হয়ে দূত বাজার থেকে চলে এসেছি। তার কাছে জানতে চাইলে আরও বলেন, মশার জন্য ঠিকমতো দাঁড়ানো যায় না। মশার কামড়ে বিভিন্ন রোগ হতে পারে। মশা নিয়ন্ত্রণের কোনো ধরনের পদক্ষেপ আছে বলে মনে হয় না।

আখাউড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হিমেল খান বলেন, মশার কামড়ে শুধু চুলকানি বা অস্বস্তিই তৈরি করে না-ম্যালেরিয়া, জিকা, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু ও ফাইলেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগও হতে পারে। মশার লালায় থাকা প্রোটিন মানবদেহে হিস্টামিন নিঃসরণ ঘটায়, যা চুলকানি ও ফোলাভাব তৈরি করে।

আখাউড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ জান্নাতুল মাওয়া বলেন, এ উপদ্রব নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বেশি থাকে। মার্চ-এপ্রিলে বৃষ্টি হলে মশার দাপট কিছুটা কমে আসে।মশার কামড়ে শুধু চুলকানি বা অস্বস্তিই তৈরি করে না-ম্যালেরিয়া, জিকা, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু ও ফাইলেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগও হতে পারে।এতে গর্ভবতী মহিলার রোগীদের ক্ষেত্রে অনেকটা বিপদজনক। দেখা যায় মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গর্ভবতী মায়েদের যেমন সমস্যা বোধ হয় তার চেয়ে বেশি সমস্যা পোহাতে হয় বাচ্চা নিয়ে।

সারাদেশ

আরও পড়ুন