ইনকিলাব মঞ্চের আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ঘোষণার পর সড়ক ছাড়েন নেতাকর্মীরা।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শাহবাগ মোড় অবরোধ করা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে গেছেন।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ফেইসবুক লাইভে সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ঘোষণার এক ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়েন নেতাকর্মীরা।
এর আগে বিকাল সোয়া ৫টা থেকে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছিলেন মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তাদের অবরোধের ফলে শাহবাগ এলাকায় যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। আশপাশের সড়কে তৈরি হয় তীব্র যানজট।
রাত ৮টার দিকে শাহবাগে আন্দোলনকারীদের কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গও করে দেয় পুলিশ। পরে তারা আবারও সেখানে জড়ো হন।
শাহবাগ অবরোধ সমাপ্ত ঘোষণা করে ‘জুলাই ঐক্যের’ সংগঠক প্লাবন তারিক বলেন, “হাদিরা আজকেও রক্তাক্ত হয়েছে। আমাদের দাবি কোনো কঠিন দাবি ছিল না। ইউনূস যেন জাতিসংঘের কাছে চিঠি দিয়ে যায় ওসমান হাদির বিচারের জন্য।
“আমরা নিরুপায় হয়ে যমুনায় গিয়েছিলাম। আমরা কোনো সংঘাত করতে যাইনি। আমরা সারারাত অপেক্ষা করেছি, একটি কেরানিও এসে আমাদের খবর নেয়নি।”
প্লাবন তারিক বলেন, “আমরা ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থান নিয়েছিলাম, আমরা সেখানে কোনো বিশৃঙ্খলা করি নাই। হাদিন পর জাবের এই সমাবেশ করত। কিন্তু আমাদের উপর দোষ দেওয়া হচ্ছে আমরা ইলেকশন ভন্ডুল করার জন্য এগুলো করছি। অন্যায়ভাবে পুলিশ আমাদের উপর আক্রমণ করেছে, জাবেরকে আহত করেছে।
“আমরা প্রশাসনের সঙ্গে বসেছি, কিন্তু ওসমান হাদির বিচারের আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে নতুন করে এ আন্দোলন শুরু হয় বৃহস্পতিবার। সেদিন সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। একই দাবিতে শুক্রবার জুমার পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দেয় সংগঠনটি।
বিকাল ৪টার দিকে সেই জমায়েত থেকে যমুনা অভিমুখে রওনা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে মঞ্চের নেতাকর্মীদের, রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের এলাকা। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত।
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটার পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এরমধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেইজ থেকে জাবেরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেওয়া হয়। যেটির বরাতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পুলিশ তা অস্বীকার করে বার্তা পাঠায়।
পুলিশের মতো একই বক্তব্য এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফেও। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকেও বলা হয়, আহতদের মধ্যে তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাউকে পায়নি।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। অবস্থান করে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত। এরপর নতুন কোনো কর্মসূচি না দিয়ে অবরোধ শেষ করেন তারা।
এদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডাকসু ভবনের সামনে ‘গণ জমায়েতের' ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই সময়ে ডাকসু নেতারা এসে কর্মসূচি স্থগিতের কথা বলেন সাংবাদিকদের।