সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাচনে দুই দিনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিন সকালে থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। আগের দিনও একই সময়ে ভোটগ্রহণ চলে। ভোট হয় সমিতির মিলনায়তনে।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন উপ-কমিটি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম। ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ৪৮ জন; ভোট পড়ার হার ৩৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর মোট ভোটার ছিল ৭ হাজার ৭০০ থেকে ৮ হাজার ৬০০-এর মধ্যে। এসব নির্বাচনে গড়ে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজারের কাছাকাছি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ২০২০-২০২১ মেয়াদে ৭ হাজার ৭৮১ জন ভোটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৯৪০টি ভোট পড়ে।
২০২৩-২০২৪ মেয়াদের নির্বাচনে ভোট পড়ার হার কমে যায়। সেবার ৮ হাজার ৬০২ জন ভোটারের বিপরীতে ভোট পড়ে ৪ হাজার ১৩৭টি। তবে ২০২৪-২০২৫ মেয়াদে তা কিছুটা বাড়ে; ৭ হাজার ৮৮৩ জনের মধ্যে ভোট দেন ৫ হাজার ৩১৯ জন।
সবশেষ ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে ভোটার সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজার ৯৭ হলেও ভোট পড়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৮টি। এর মধ্যে প্রথম দিন ১ হাজার ৭৭১ জন এবং দ্বিতীয় দিন ২ হাজার ২৭৭ জন ভোট দিয়েছেন।
একটি প্যানেলের ভোট বর্জনের ঘোষণা এবং কম ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী অতীত ও বর্তমানের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আগে এই সিস্টেম ছিল না, এখন তো অন্য সিস্টেম হইছে। আগে হাল্কা আওয়াজ ছিল, আনন্দ ফুর্তি ছিল। আমরা সারারাতই ফুর্তি করতাম। কিন্তু এই মারামারি, হাউকাউ ছিল না।”
বিগত কয়েক বছরের নির্বাচনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিশেষ করে লাস্ট যে ইলেকশনটা, আমরা তো বাইরে, ভিডিওতে দেখছি। ভিতরে মারামারি, এবং ওই যে দুইজনরে সেক্রেটারি ডিক্লেয়ার করতে হইছে। ইলেকশনের যিনি দায়িত্বে ছিলেন উনি বাধ্য হইয়া এগুলা করছেন। তো যাক, আমাদের তো সেই সিচুয়েশনটা হয় নাই, আশা করি ভবিষ্যতেও হবে না।”
ভোট বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কোনো পক্ষ নাই, সবাই সহকর্মী। যারা বর্জনকারী পক্ষ হিসেবে পরিচিত, তাদের অনেকে ভোট দিতে এসেছেন। সুতরাং ওই নোংরামিটা তারাও পছন্দ করে না। নানা জনের নানা মত থাকে, অনেকে মনে করতেছে ধুর, আজকে ভোট না গেলে কী হবে!”
ভোটারদের পক্ষ থেকে ওঠা অভিযোগ নির্বাচন সাব-কমিটি উড়িয়ে দিয়েছে মন্তব্য করে সহ-সম্পাদক প্রার্থী মোস্তফা আসগর শরীফী বলেন, “যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিখিতভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অফিশিয়ালি কোনো জবাব দেয়নি। এই অফিশিয়াল জবাবটা সাধারণ ভোটারের জানাটা জরুরি ছিল।”
ভোটার উপস্থিতির হার নিয়ে শরীফী বলেন, “ভোটের হার কম ছিল, তবে যতটুকু কম মনে করা হয়েছিল, আসলে ততটুকু কম হয়নি। ৪ হাজারের বেশি ভোট পড়েছে, এটা মোটামুটি সন্তোষজনক।”
ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সবুজ প্যানেলের সহ সভাপতি প্রার্থী মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, একজনের সাতটি ভোট দেওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছে, তা তিনি শুনেছেন, তবে এখনও বিস্তারিত খবর নেননি।
ভোটের পরিবেশ ভালো দাবি করে তিনি বলেন, “পরিবেশ খারাপ মনে হয় নাই। উপস্থিতি তো খুব কম না, এর আগের বারও এরকমই হইছে।”
আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা পরিচিত মুখ বা যাদের উপরে ক্ষোভ আছে, এরকম আসে নাই। যারা সাইলেন্ট আওয়ামী লীগার বা অত বেশি অ্যাক্টিভিস্ট না, তারা দিছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারপতনের পর ২০২৫-২০২৬ মেয়াদে বারে কোনো নির্বাচন হয়নি। প্রায় দুই বছরের বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে তিনটি প্যানেল থেকে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্যানেলগুলো হলো, বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী নীল প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল।