দেশের কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে এনে একটি লাভজনক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করতে সরকার একগুচ্ছ বড় উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদকে এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডাটাবেজ তৈরি এবং মোবাইলভিত্তিক সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষকের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি এবং সরকারি সেবা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমেই সারাদেশের প্রায় পৌনে ৩ কোটি কৃষককে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে।” এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকেরা আবহাওয়ার তথ্য, বাজারদর, কৃষি পরামর্শ এবং ই-এক্সটেনশন সেবা সহজে পাবেন।
উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং শ্রম সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে সরকার কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কৃষিতে এখন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অব থিংস (IoT),
ড্রোন ও জিপিএস (GPS), রিমোট সেন্সিং ও স্যাটেলাইট তথ্য, বিগ ডাটা (Big Data)
ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। এসবের মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা আরও বিজ্ঞানভিত্তিক হবে। এর ফলে 'প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার' বা নিখুঁত কৃষি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে, যা উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়াবে।
কৃষকদের সুবিধার্থে ইতিমধ্যে ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, এর মাধ্যমে দেশের কোন এলাকায়, কোন সময়ে, কোন ফসল ভালো হবে এবং কী পরিমাণ সার প্রয়োজন—তা কৃষকেরা ঘরে বসেই জানতে পারছেন।
পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে ‘জলবায়ু-স্মার্ট’ ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব ও বায়োফার্টিলাইজার ব্যবহারের ওপরও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই যুগান্তকারী উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের ফলে দেশের কৃষি খাত আরও উৎপাদনশীল হবে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।