• ঢাকা
  • মঙ্গলবার , ৯ জুন ২০২৬ , রাত ১১:৫৫
শিরোনাম
হোম / জাতীয়
রিপোর্টার : অনলাইন ডেস্ক:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন’: প্রতিবেদনকে পেপার কাটিং নির্ভর বলা নিয়ে টিআইবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন’: প্রতিবেদনকে পেপার কাটিং নির্ভর বলা নিয়ে টিআইবি

প্রিন্ট ভিউ

বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমের মধ্যে সুশাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।  

সরকারের ১০০ দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনকে ‘পেপার কার্টিং নির্ভর’ বলার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার টিআইবির এ বিষয়ক প্রতিবেদনকে ‘পেপার কার্টিং নির্ভর বলে তুলে ধরলে মঙ্গলবার এ প্রতিক্রিয়া দেয় টিআইবি।

এ প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র হিসেবে পুলিশ ও তিনটি ‘সুপরিচিত’ মানবাধিকার সংগঠনের কথা তুলে ধরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে তথ্যসূত্র দেওয়া হয়েছে।

অতএব, টিআইবির প্রতিবেদন শুধু পত্রিকার কাটিং এর ওপর নির্ভর করে প্রণীত হয়, মাননীয় মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই।

সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত এবং স্বীকৃত গুণগত ও পরিমাণগত তথ্য সংগ্রহের পরিসংখ্যান বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করার কথা তুলে ধরে টিআইবি বলছে, সংগৃহীত তথ্যের যথার্থতা বহুমাত্রিক প্রক্রিয়ায় যাচাই সাপেক্ষে, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তৈরি করে।

বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমের মধ্যে ‘সুশাসন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রোববার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি।

এতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটার তথ্য দিয়ে বলা হয়, “অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।”

এ প্রতিবেদন নিয়ে সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “টিআইবিতো সরকারি সংস্থা না; আপনারা পরিসংখ্যানটা নেবেন পুলিশ বিভাগ থেকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। আপনারই বিচার করবেন, জনগণ বিচার করবে। আর টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিং থেকে। টিআইবি কোনো তদন্ত করে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলেছে, “টিআইবি প্রকাশিত প্রতিবেদনের কোনো কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, জাতীয় সংসদে আলোচনা ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়ার সংবাদে সংস্থাটি অনুপ্রাণিত বোধ করছে। এরূপ প্রতিক্রিয়া টিআইবির প্রয়াসকে বিভিন্নভাবে ফলপ্রসূ করতে সহায়ক বলে মনে করে সংস্থাটি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে, টিআইবি তদন্ত করে না। টিআইবি কোনো তদন্ত সংস্থা নয়, মূলত গবেষণা-নির্ভর দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনবিষয়ক অধিপরামর্শ ও জনসচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ততা-ভিত্তিক পরিবর্তন প্রত্যাশী একটি সংগঠন।”

টিআইবির প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যানের নামে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে ঢালাওভাবে অবমূল্যায়ন করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তারা বলছে, “শত প্রতিকূলতা ও বিতর্ক স্বত্বেও অন্য যেকোনো দেশের মতোই আমাদের জনপ্রতিনিধি, সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ কী গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না? তারা নিজেদের অবস্থান, মতামত বা সার্বিক কার্যক্রমের প্রচার ও প্রসারে গণমাধ্যমের ওপর কী নির্ভর করেন না?

অতএব টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান বা এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নামে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে এমন ঢালাওভাবে অবমূল্যায়ন করার যুক্তি নাই।

তবে টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে পুলিশ যে ব্যাখ্যা পাঠিয়েছে তা কোনো মন্তব্য না করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পুলিশ কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের আগ্রহের বিষয় সম্পর্কে টিআইবির মূল পর্যবেক্ষণ অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেননি। তবে পূর্বের কোনো মেয়াদের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন, তা টিআইবির উল্লিখিত গবেষণা প্রতিবেদনের পরিধিভুক্ত না হওয়ায় সংস্থাটির পক্ষে এ ধরনের কোনো মন্তব্য করা যৌক্তিক নয়।”

জাতীয়

আরও পড়ুন