গাজীপুরে রাত ১১টার পর থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার চালকদের গ্যাস পাওয়ার যেন কোনো উপায় নেই। অধিকাংশ সিএনজি পাম্পের লাইট বন্ধ রেখে ভেতরের লাইনে বড় বড় কনটেইনার বা কাভার্ড ভ্যানে অবাধে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ চালকেরা। সম্প্রতি টঙ্গী বাজার থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী পর্যন্ত সরেজমিনে অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, টঙ্গী বাজার থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৪টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। রাত ১১টা বাজতেই প্রায় সবকটি ফিলিং স্টেশনের বাইরের প্রধান বাতিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আপাতদৃষ্টিতে পাম্প বন্ধ মনে হলেও ভেতরে চালুর রাখা হয় সিলিন্ডার রিফিল করার কাজ।
সাধারণ যানবাহন ও অটোরিকশা ঢুকতে না দিয়ে পাম্পগুলোর ভেতরের গোপন লাইনে বড় বড় গ্যাস কনটেইনার লরিতে গ্যাস লোড করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোর কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
কোনাবাড়ী থেকে ফেরার পথে খবর মেলে—টঙ্গীর চেরাগ আলীর 'স্পিডওয়েল ফিলিং স্টেশন' এবং টঙ্গী বাজারের 'সেনাকল্যাণ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে' গ্যাস না পেয়ে ড্রাইভারদের সঙ্গে পাম্প কর্মচারীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
তাত্ক্ষণিকভাবে টঙ্গীর স্পিডওয়েল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্প সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জুবায়ের জানান: "ম্যানেজমেন্টের কঠোর নির্দেশ রয়েছে, তাই আমাদের করার কিছু নেই।"
ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর চাওয়া হলে তিনি নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ চালকদের একজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ জানান। সেখান থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে তাৎক্ষণিক সমাধান না পেয়ে উপস্থিত চালকেরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের প্রস্তুতি নেন।
পরবর্তীকালে উপস্থিত সবার মধ্যস্থতায় ও প্রতিবেদকের অনুরোধে প্রকৌশলী জুবায়ের একটি লাইন চালু করে গ্যাস দিতে সম্মত হন। কিন্তু গ্যাস রিফিল করতে গিয়ে দেখা যায় মিটারে পর্যাপ্ত প্রেশার নেই। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, ভেতরের মূল সংযোগ থেকে বড় কনটেইনার লরিতে গ্যাস সরবরাহের ফলে লাইনে চাপের তীব্র ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী চালকেরা জানান, গাজীপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন শত শত গাড়ি গ্যাস না পেয়ে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ একশ্রেণির অসাধু ফিলিং স্টেশন মালিক রাতের অন্ধকারে কনটেইনার লরিতে গ্যাস বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অবৈধ 'গ্যাস বাণিজ্য' চালিয়ে যাচ্ছে।
গাজীপুরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই শক্তিশালী পাম্প সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে অবিলম্বে রাতের বেলা সাধারণ যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ড্রাইভার ও সাধারণ যাত্রীরা।