চাঁদপুর শহরের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখা মিলছে না বলে স্বজনদের বরাতে জানিয়েছে পুলিশ।
তারা হলেন- চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়ের’ মালিক পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি দাস এবং তাদের দুই ছেলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম দাস ও রুপম দাস।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, “পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে ২০ অগাস্ট থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না-এ বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তার কাছে সোনা বন্ধক রেখে অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না বলেও জানতে পেরেছি।
“পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে আছেন, নাকি তাদের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
এদিকে পিন্টু দাসের কাছে বিভিন্ন ব্যক্তির স্বর্ণ বন্ধক রাখার পর তা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার সপরিবারে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বন্ধক রাখা স্বর্ণের মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার নিখোঁজ পিন্টু দাসের মাসতুতো বোন ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্ট্রান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে বলেন, “পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার ওপর ‘ঋণের চাপ’ ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।
“ তাকে হুমকি দেওয়ার কথাও শুনেছি। তাই তিনি পরিবার নিয়ে কোথাও চলে গেছেন কি না, সেটিও আমরা নিশ্চিত নই।”
স্থানীয়দের বরাতে ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, একাধিক জায়গায় ব্যবসা করার পর প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে দোকান ভাড়া নেন পিন্টু দাস। তার মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে তার আত্মীয়স্বজন রয়েছে।
তিনি বলেন, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসা করতেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নেওয়ার পর তা ফেরত দিতে না পারার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ব্যবসার জন্য বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান পিন্টু দাসের কাছে স্বর্ণ বন্ধক রাখার কথা জানান।
রাসেল বলেন, তিনি প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ১৯ অগাস্ট ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু তাকে পরদিন আসতে বলেন।
তার ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ে গিয়ে পিন্টুর দোকানে তালা ঝুলতে দেখতে পান। পরে তার বাসায় গিয়েও তালা দেখতে পান। এরপর পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ হয়েছে বলে খবর জানতে পারেন। এ ঘটনায় রাসেল বুধবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।
এছাড়া চাঁদপুর শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই ফেরদৌস বলেন, “পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে কি-না, এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।