• ঢাকা
  • সোমবার , ৪ মে ২০২৬ , রাত ০৮:৩১
শিরোনাম
হোম / বাণিজ্য
রিপোর্টার : দেশকাল ডেস্ক:-
আম রপ্তানির ক্যালেন্ডার প্রকাশ করলো ডিএই

আম রপ্তানির ক্যালেন্ডার প্রকাশ করলো ডিএই

প্রিন্ট ভিউ

আম  সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বর্তমানে বাংলাদেশ গত কয়েকবছর ধরেই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে আম রপ্তানি করছে।

একেক অঞ্চলের আম একেক সময়ে পাকার উপযোগী হয়ে থাকে এবং অসময়ে আম যাতে বাগান থেকে সংগ্রহ করে বিদেশে রপ্তানি করতে না পারে তার লক্ষ্যে আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়।এতে কোন অঞ্চলের আম কবে সংগ্রহ করতে পারবে তা খুব সহজে রপ্তানিকারক ও ভোক্তা সাধারণ জানতে পারবে।

সভায় মতামতদেন বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি আম উৎপাদনে থাকা জেলাগুলোর উপ-পরিচালকগন।অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন অনেক সময় অপরিপক্ক আম সংগ্রহ করা হয় বলে আমের পুষ্টিমান যথাযথ পর্যায় বজায় থাকে না, আম হয় খেতে স্বাদহীন। আবার কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে অসময়ে আম সংগ্রহ করে কাঁচা আম পাকা বলে বাজারে  সরবরাহ করেন, এতে ভোক্তা প্রতারিত হোন।পাশাপাশি অপরিপক্ক আম রপ্তানি করতে গিয়ে বাধার সম্মুখিন হয়।

 সাধারণত অক্ষাংশ এবং জলবায়ুজনিত কারণে একই জাতের আম বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন  সময় পরিপক্ক হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা সাতক্ষিরা এবং পাহাড়ে অক্ষাংশ কম থাকায় এসকল এলাকার আম আগে পরিপক্ক হয়। আজ ঢাকার খামারবাড়িতে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প উদ্যোগে আম সংগ্রহের ক্যালান্ডার তৈরি সংক্রান্ত এক সভায় বক্তারা এসব তথ্য দেন। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  মহাপরিচালক সভাপতিত্ব করেন।  সভায় আম বিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, রফতানিকারক, বিভিন্ন আম উৎপাদনকারী জেলার কৃষি বিভাগের উপপরিচালক এবং মিডিয়া ব্যক্তিবর্গ  উপস্থিত ছিলেন।  

সভায় জানানো হয় বাংলাদেশের আম বিশ্বের ৩৭টি দেশে রফতানি হয়। এই মৌসুমের আম আগামী ২০মে থেকে আম রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু হবে।যা ৭৮দিন পর্যন্ত বিভিন্ন জাত বিদেশে রপ্তানি করা হয় বলে জানান।পাশাপাশি দেশের লেট ভেরাইটি অর্থাৎ দেরিতে ফলন আসে এমন জাত কে গুরুত্ব দিলে ১০০দিন পর্যন্ত রপ্তানি করা যাবে বলে মত দেন সভায় বিজ্ঞানীগন।

আম উৎপাদনে শীর্ষে থাকা জেলা গুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা ৭০৮৮০ মে.টন,চাঁপাইনবয়াবগঞ্জ ৪৫৮৯১২ মে. টন নঁওগা ৪২১৪২৮ মে.টন,রাজশাহী ৪৪৯৯৫২ মে.টন উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্র অর্জন হবে জানা যায়। রফতানিকৃত দেশের সাথে আমাদের কৃষিজ পণ্য বাণিজ্যের বিষয়ের সাথে সাথে উভয় রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জড়িত বলে মনে করেন এইখাতের ব্যক্তিরা। একারণে রফতাণির ক্ষেত্রে আম সঠিক সময় সংগ্রহ এবং বাজারজাতকরণ অতি গুরুত্বপূর্ণ। সভায় জাতওয়ারি জেলা ভিত্তিক আম সংগ্রহের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। 

বক্তরা জানান মানসম্মত আম রফতানি এবং বাজার ব্যবস্থায় স্থায়িত্ব ধরে রাখার জন্য ঠিক পরিপক্ব ধাপে আম সংগ্রহ করা প্রয়োজন। পাকা আম পরিপূর্ণ পুষ্টতায় না পোঁছানো পর্যন্ত গাছ থেকে পাড়া উচিৎ নয়। কারণ অপুষ্ট আম ঠিকমত পাকে না এবং স্বাদে টক বা অল্প মিষ্টি হয়। জলবায়ু ও ভৌগলিক কারণে আম পরিপক্বতার সময়ে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এজন্য মানসম্মত আম রফতানির লক্ষ্যে জেলাওয়ারি জাতিভিত্তিক আম সংগ্রহের সময় নির্ধারন করা প্রয়োজন। 

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শরফ উদ্দিন এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আম রফতানি ও বিপণন ব্যবস্থা বিষয়ে আলোচনা করেন মোহাম্মদ আরিফুর রহমান। সভার আলোচনার ভিত্তিতে জাত ভিত্তিক আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সাতক্ষিরায় উৎপাদিত গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বৈশাখী ও স্থানীয় জাতটি আগামী ৫ মে সংগ্রহ শুরু হবে এবং সর্বশেষ জাত হিসেবে গৌরমতি ১৪ আগস্ট সংগ্রহ শুরু হবে। অর্থাৎ মে মাস আম সংগ্রহ শুরু হলেও জাত এবং জেলার ভিত্তিক আম পরিপক্কতার সময় ভিন্নতার কারণে আম অক্টোবর ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত সংগ্রহ করা যাবে।

এইদিকে আম রপ্তানিকারক মনসুর রহমান বলেন,বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিমানের ভাড়ার তুলনায় আমাদের দেশে বিমান ভাড়া অনেক বেশি যার ফলে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা আমাদের জন্যে কষ্টকর হয়ে যায়।তাই বিদেশে আম রপ্তানির ভাড়াটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারলে দেশের আম রপ্তানি আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

রফতানিযোগ্য আম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন গত বছর আমাদের দেশ থেকে ২১৯৪ মে.টন আম রপ্তানি করা হয়।আমাদের এই প্রকল্প হতে আম উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকদের সকল ধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

বাণিজ্য

আরও পড়ুন