• ঢাকা
  • বৃহঃস্পতিবার , ১৬ জুলাই ২০২৬ , রাত ০২:৫০
শিরোনাম
হোম / সারাদেশ
রিপোর্টার : মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
মাধবপুরে ১৫ দিনে ৪ আত্মহত্যা: নীরব সংকটে উদ্বিগ্ন জনপদ

মাধবপুরে ১৫ দিনে ৪ আত্মহত্যা: নীরব সংকটে উদ্বিগ্ন জনপদ

প্রিন্ট ভিউ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন নারী ও এক পুরুষের আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো জনপদে উদ্বেগ ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক এমন মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—কেন বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা? পারিবারিক অশান্তি, অর্থনৈতিক চাপ, মানসিক অবসাদ নাকি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা—কোনটি মানুষকে এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

সর্বশেষ বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার হাড়িয়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে আনিতা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী বুলবুল আহমেদ স্থানীয় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে ৬ জুলাই নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক প্রকাশ রেলী (২৬) আত্মহত্যা করেন। পরিবারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ঋণের চাপ ও মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন তিনি। ৪ জুলাই জগদীশপুর চা বাগানের শ্রমিক সবিতা বাউরী (৩০) আত্মহত্যা করেন। একই দিনে উপজেলার খাটুরা গ্রামে সুমা সরকার (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে, যা আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই উপজেলার মধ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানে চারটি আত্মহত্যার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, দাম্পত্য কলহ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, একাকীত্ব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা মানুষের মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেকেই সময়মতো প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা বা কাউন্সেলিং পান না, ফলে সংকট আরও গভীর হয়।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিজয় কুমার দত্ত বলেন, আত্মহত্যা কোনো একক কারণের ফল নয়। মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা চাপ একসঙ্গে কাজ করে একজন মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনাকে সংবেদনশীলভাবে দেখা এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, পরিবারের কেউ দীর্ঘদিন বিষণ্নতায় ভুগলে, অতিরিক্ত হতাশা প্রকাশ করলে বা নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত এবং দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, প্রতিটি ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

জাতীয়

সারাদেশ

আরও পড়ুন