• ঢাকা
  • শুক্রবার , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , রাত ১০:০১
শিরোনাম
হোম / উপসম্পাদকীয়
রিপোর্টার : সৈয়দ এরশাদ আহমেদ

ব্যাংক সিইওদের মূল্যায়ন: কেপিআই হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ


ব্যাংক সিইওদের মূল্যায়ন: কেপিআই হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ

প্রিন্ট ভিউ

দেশের ব্যাংকিং খাত যখন খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট, মুনাফায় চাপ এবং সুশাসনের অভাবে এক চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে, ঠিক তখনই বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (সিইও) পারফরম্যান্স মূল্যায়নে ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ (কেপিআই) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খাতের মূল সংস্কার ও আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তবে এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়—ব্যাংক সিইওরা কি এতদিন কেপিআই ছাড়া কাজ করছিলেন? উত্তর হলো, মোটেই না। মুনাফা, আমানত সংগ্রহ, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ক্যাপিটাল এডিকোয়েসি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং পরিচালনা ব্যয় হ্রাসের মতো নানা আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক সূচকে তারা নিয়মিতই মূল্যায়িত হন। কিন্তু মূল সমস্যা সিইওদের কেপিআই না থাকা নিয়ে নয়; বরং সমস্যা হলো পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক সেই মূল্যায়নের প্রক্রিয়া কতটা বস্তুনিষ্ঠ, স্বচ্ছ ও পেশাদার।

শুধু বার্ষিক মুনাফা বা ঋণের আকার দেখে সিইও-এর দক্ষতা বিচার করা ঝুঁকিপূর্ণ। সাময়িক মুনাফা বাড়াতে গিয়ে ঋণের গুণগত মান নষ্ট হলে তা পরবর্তীতে ব্যাংকের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। অন্যদিকে, একজন বিচক্ষণ সিইও ধীরগতির প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন শক্তিশালী করতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংককে টিকিয়ে রাখে। তাই একটি কার্যকর কেপিআই কাঠামোয় কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, বরং প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ঝুঁকি, মুনাফার সঙ্গে টেকসই ব্যবস্থা এবং ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সুশাসনের সঠিক ভারসাম্য থাকতে হবে।

একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নে সিইওদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতার প্রভাব ব্যাংকের ব্যবসায় পড়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য সিইওকে এককভাবে দায়ী করা যেমন অন্যায়, তেমনি পর্ষদের সাথে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ককে পেশাদার মূল্যায়নের বিকল্প বানানোর সুযোগও বন্ধ হতে হবে।

কেপিআই যেন নিছক কোনো যান্ত্রিক হিসাব-নিকাশে পরিণত না হয়, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন। নেতৃত্ব কেবল সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; সততা, কৌশলগত চিন্তা, সংকট মোকাবেলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তবে তা ব্যাংকিং খাতে একটি পেশাদার ও টেকসই কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলবে। এই ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু কোনো সিইও ‘ভালো’ না ‘খারাপ’ তা নির্ধারণ করা নয়, বরং এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি করা—যেখানে কাজের মান স্পষ্টভাব সংজ্ঞায়িত হবে এবং মূল্যায়ন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক।

সৈয়দ এরশাদ আহমেদ: ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি, এমচ্যাম বাংলাদেশ এর সাবেক প্রেসিডেন্ট

মতামত

আরও পড়ুন