হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ এক দশক পর ফের আনন্দ শিপইয়ার্ডের মালিক বারীর বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু করেছে দূদক। সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এক দশক পর ফের আনন্দ শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহিল বারী ও তার স্ত্রী আফরোজা বারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এর আগে ২০১৪ সালে একই প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছিল সংস্থাটি। তবে সেই অনুসন্ধান আর শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। রোববার দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুদক জানায়, আবদুল্লাহিল বারী, তার স্ত্রী আফরোজা বারী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের অবশিষ্টাংশ অনুসন্ধানের জন্য নতুন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
নথি অনুযায়ী, আগের অনুসন্ধান দলের দাখিল করা প্রতিবেদনের পরও অভিযোগের কিছু অংশ অনুসন্ধান করা বাকি রয়েছে। সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে দুদক।
এর আগেও আনন্দ শিপইয়ার্ডের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক।
২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাহাজ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের মাধ্যমে ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিযোগ ছিল, আনন্দ শিপইয়ার্ড বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেনি। এমনকি যে উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়া হয়েছিল, সেই কাজেও অর্থ বিনিয়োগ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যাংকের অর্থ ‘চরমভাবে অপব্যবহার’-এর কথা উল্লেখ করা হয়।
২০১৪ সালের অক্টোবরে অনুসন্ধান আরও গতিশীল করতে দুদকের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন উপসহকারী পরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাত ও উপসহকারী পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন।
এর আগে ওই বছরের এপ্রিলে জাহাজ রপ্তানির নামে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণসংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছিল। নথিপত্র পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল সংস্থাটি। তবে পরবর্তী সময়ে সেই অনুসন্ধান আর দৃশ্যমান অগ্রগতি পায়নি।
দুদক জানায়, দুদকের বর্তমান অনুসন্ধানে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি আবদুল্লাহিল বারী ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্যও যাচাই করা হবে। দেশে থাকা সম্পদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তর বা সম্পদ গড়ার তথ্য অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে।
দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবেন। এরপর অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।