• ঢাকা
  • রবিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , রাত ০৩:১৭
শিরোনাম
হোম / ক্রাইম
রিপোর্টার : নাছির খান, বন্দর প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দিনদুপুরে স্বর্ণের দোকানে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি


নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দিনদুপুরে স্বর্ণের দোকানে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি

প্রিন্ট ভিউ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ঢাকেশ্বরী বাজারে দিনদুপুরে একটি স্বর্ণের দোকানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনায় বাজারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতির পুরো ঘটনা দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। অস্ত্রধারীরা দোকানের লোকজনকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। 

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাকাতির পরের দিনও সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে একটি নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে মামলা না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য থানায় পাওয়ার পর তা লিপিবদ্ধ করার বিধান রয়েছে। একই আইনের ১৫৬ ও ১৫৭ ধারায় আমলযোগ্য অপরাধের তদন্ত এবং অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশের করণীয় সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক সম্পদ লুটের ঘটনা প্রমাণিত হলে তা দণ্ডবিধির ডাকাতি-সংক্রান্ত বিধানের আওতায় পড়তে পারে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি যৌথভাবে ডাকাতিতে অংশ নিলে সেটি দস্যুতা হিসেবে গণ্য হওয়ার বিধান রয়েছে।

এ অবস্থায় ঢাকেশ্বরী বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ, লুট হওয়া মালামালের তথ্য যাচাই এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

একই সঙ্গে, ঘটনার পর দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি হয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে মামলা না হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী পুলিশ কী পদক্ষেপ নিতে পারে এবং কেন তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু হয়নি বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল বাজারে এমন ঘটনা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আতায় আনা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ক্রাইম

আরও পড়ুন