শরীয়তপুর নড়িয়া নশাসন গ্রামের মাটিতে আজ উন্মোচিত হয়েছে এক বিভীষিকাময় প্রতারণার ইতিহাস, যেখানে এক বিত্তশালী ও প্রভাবশালী বড় ভাই তাঁর পরম বিশ্বাসী, মানসিক ভারসাম্যহীন রিকশাচালক ছোট ভাইয়ের পৈতৃক সম্পদ জালিয়াতি করে আত্মসাতের চেষ্টা চালায়।
মিজানুর রহমান ঢাকা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন ও ১৭সেপ্টেম্বর ২০২৬ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি ছিলেন। তিনি
আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর পূর্বে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার সেই তীব্র মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে চিরতরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মিজানুর রহমান মুন্সি । মাঝে মাঝে কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলেও তিনি আবার হারিয়ে যান তাঁর ঘোরগ্রস্ত দুনিয়ায়। এই চরম অসুস্থতা আর দারিদ্র্যের মধ্যেও পেটের তাগিদে ও পরিবারের আহার জোগাতে তিনি বছরের পর বছর রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। পিতা মুন্সী আবদুর রবের মৃত্যুর পর যাঁর পরম দায়িত্বে মিজানুরের ছায়া হওয়ার কথা ছিল, সেই আপন বড় ভাই এমদাদ হোসেন মুন্সি নিজেকে সাজিয়েছিলেন অভিভাবক রূপে। কিন্তু সেই ছদ্মবেশের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ধূর্ত আত্মসাৎকারী।
১৯৯৩ সালের জাল বিনিময় দলিল ও প্রতারণার মোড়ক মিজানুরের মানসিক প্রতিবন্ধকতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে ১৯৯৩ সালের ২৬ আগস্ট নড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক ভয়াবহ চক্রান্তের জাল বোনেন বড় ভাই এমদাদ হোসেন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু লোক ও দলিল লেখকের সাথে যোগসাজশে অবুঝ মিজানুরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও ফুসলিয়ে ২১১০ নং একটি জালিয়াতিপূর্ণ 'এওয়াজ বদল' বা বিনিময়পত্র দলিল সম্পাদন করিয়ে নেওয়া হয়। এই প্রতারণামূলক দলিলের মাধ্যমে বি.আর.এস ৬০৬ নং খতিয়ানের ৩৫০৬ ও ৩৫০৮ নং দাগে মিজানুরের স্বত্বাধীন ৩৯.৫০ শতক দামি বসতভিটা ও পুকুরের জমি এমদাদ নিজের নামে হাতিয়ে নেন। আর তার বিনিময়ে বি.আর.এস ৩৫৫ নং খতিয়ানের ২০.৬৪ শতক নাল জমি মিজানুরকে দেওয়া হয়েছে বলে কাগুজে নাটক সাজান।
এমদাদ হোসেনের নিজের ফাঁদে নিজে পড়ার জঘন্য প্রমাণ, এই ২১১০ নং বিনিময় দলিলটি যে কত বড় মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাগুজে জালিয়াতি, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ রেখে গেছেন এমদাদ হোসেন নিজেই। যদি ১৯৯৩ সালের ২১১০ নং বিনিময় দলিলের মাধ্যমে ৩৫৫ নং খতিয়ানের সম্পূর্ণ জমি মিজানুরকে দিয়েই দেওয়া হয়ে থাকে, তবে পরবর্তীতে কীভাবে এমদাদ হোসেন ২০১৪ সালে সেই একই ৩৫৫ নং খতিয়ানের জমি থেকে জনি মুন্সী ও খোরসেদ আলম মুন্সীর কাছে একাধিক সাফ-কবলা দলিলে পুনরায় বিক্রি করলেন? যে জমির মালিকানা তিনি অন্যকে দিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করছেন, সেই একই জমি তিনি পরবর্তীতে অন্যের কাছে বিক্রি করলেন কীভাবে? এই একটি ঘটনাই দিবালোকের মতো স্পষ্ট করে দেয় যে, ১৯৯৩ সালের ২১১০ নং বিনিময় দলিলটি ছিল পুরোপুরি ভুয়া, মিথ্যা ও জালিয়াতিপূর্ণ। এমদাদ হোসেন নিজেও কখনো এই দলিলকে বাস্তব বা কার্যকরী বলে মনে করেননি, বরং দুর্বল ছোট ভাইকে ঠকানোর একটা কাগুজে অস্ত্র হিসেবে বানিয়ে রেখেছিলেন।
এই জালিয়াতিপূর্ণ ২১১০ নং দলিল আইনত বাতিল হওয়ার সাথে সাথেই ধসে পড়বে এমদাদ হোসেনের সমস্ত বেআইনি সাম্রাজ্য। দলিলটি বাতিল হলে মিজানুর রহমান বি.আর.এস ৬০৬ নং খতিয়ানের ৩৫০৬ ও ৩৫০৮ নং দাগের মোট ৭৯ শতক জমির মধ্যে তাঁর নিজ নামের রেকর্ডিও ৩৯.৫০ শতক এবং দলিল মূলে প্রাপ্ত ২০ শতক মিলিয়ে মোট ৫৯.৫০ শতক জমির পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ স্বত্বাধিকারী হবেন। নিজ ভাই মিজানুরের দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব এবং মানসিক অক্ষমতার অপব্যবহার করে বিত্তশালী ও প্রভাবশালী এমদাদ এতদিন ধরে এই বিপুল সম্পত্তি অবৈধভাবে আত্মসাৎ করে রেখেছিলেন।
দীর্ঘ ৩১ বছর এই জালিয়াতির তথ্য গোপনে রাখার পর যখন জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়, তখন অসহায় মিজানুরের স্ত্রী হালিমা বেগম বাধ্য হয়ে নড়িয়া সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং- ২৬৬/২০২৪ দায়ের করেন। কিন্তু আদালতের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান না দেখিয়ে বিবাদী এমদাদ হোসেন নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে কোনো লিখিত জবাব দাখিল করেননি। উল্টো আদালতের নোটিশ পেয়ে গায়ের জোর দেখিয়ে অসহায় রিকশাচালক মিজানুরের শেষ সম্বল বসতভিটার ফলজ ও বনজ গাছ কেটে নিয়ে গেছেন! শুধু গাছ কেটেই ক্ষান্ত হননি, অবিরত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার এবং সেই নালিশী জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন।
আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী রিকশাচালকের ওপর এমন ক্ষমতার দাপট এই জালিয়াতি আর বাহুবলের শাসন কোনো আধুনিক ও সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি শরীয়তপুরের স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই কর্মকাণ্ডের কঠোর আইনি বিচার নিশ্চিত করেন এবং অসহসয় মিজানুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে তাঁদের পৈতৃক বসতভিটায় পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে বসবাসের অধিকার ফিরিয়ে দেয়। এবিষয়ে অভিযুক্ত বিবাদী এমদাদ মুন্সি বলেন তার ভাই মিজান মুন্সির জমি সে দখল করে নাই যে জমি বিক্রি করা হয়েছে তার টাকা সে ফেরত দিবে পুকুরে জমি সে ভরাট করেছে পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে পুকুরের জমি বিক্রি করেছে তাই তার ভাইকে দেওয়ার মতো কোন জমি পুকুরে নেই। জাল দলিল ও ভাই পাগল মানসিক রোগী এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।