ঢাকায় ‘বাংলাদেশ রোইং ২০২৬’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন: ২৫টি প্রতিষ্ঠানের ২০০ শিক্ষার্থীর সনদ লাভ
প্রিন্ট ভিউ
রাজধানীর রোলার স্কেটিং স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ রোইং ২০২৬ ট্রেনিং অ্যান্ড সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’। দেশের ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সনদ গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ রোইং ফেডারেশনের সভাপতি এম. শোয়েব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য এশিয়ান এজ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কাজী জেসমিন চৌধুরী শিখা।
প্রতিভা অন্বেষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, “রোইং শুধু একটি খেলা নয়, এটি শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা, নেতৃত্ব ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের বাছাই করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে রোইংয়ের নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে সহায়ক হবে। আগামী দিনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এরাই দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ও সুনাম বয়ে আনবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দ্য এশিয়ান এজ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কাজী জেসমিন চৌধুরী শিখা বলেন, “প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই নতুন মুখগুলোর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি আনাচে-কানাচে রোইং ছড়িয়ে পড়বে। একই সাথে আমাদের ঐতিহ্যের অংশ ‘নৌকা বাইচ’ খেলাও ফিরে পাবে নতুন প্রাণ। শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা অপরিহার্য।” তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।
৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সম্ভাবনার কথা:
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রোইং ফেডারেশনের সভাপতি এম. শোয়েব চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ খেলা রোইং। অলিম্পিকে এটি অন্যতম বৃহৎ ইভেন্ট, যেখানে ১৫টি স্বর্ণপদক রয়েছে। তবে অতীত উদাসীনতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে গত ৫৪ বছরেও বাংলাদেশ রোইং কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। তবে সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিকাঠামো পেলে আমাদের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদক জয় করতে সক্ষম।”
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের একটি শক্তিশালী রোইং দল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফেডারেশন ইতোমধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য—প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, আধুনিক সরঞ্জামাদি আনা এবং উচ্চতর কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা। তিনি সরকারি সহায়তার পাশাপাশি করপোরেট খাতকে পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও রোইং ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এম খোরশেদ আলম বলেন, “১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ফেডারেশন দীর্ঘকাল থমকে ছিল। বর্তমান কমিটি এবং ক্রীড়াবান্ধব সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগে রোইং আবার নতুন করে জেগে উঠেছে।”
অনুষ্ঠানের চিফ কো-অর্ডিনেটর মো. রাশিম মোল্লা শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশের রোইং খাত অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ:
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রোইং ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ ইমতিয়াজ করিম, মো. রেসাদ হাসান, নাসিরুজ্জামান চৌধুরী, মো. হুমায়ূন কবীর, মোস্তাক আহমেদ, রেবা কবির এবং মুহাম্মদ তারেক রাজীব।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, পদ্মা সরকারি কলেজ, হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজ, গভর্নমেন্ট শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সলিমুল্লাহ কলেজ, ঢাকা সিটি মডেল কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, শ্যামপুর সরকারি মডেল কলেজ, নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুল, শ্যামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মেট্রোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লাইসিয়াম ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা।
জাতীয়