• ঢাকা
  • সোমবার , ৫ অক্টোবর ২০২৬ , রাত ০৩:২০
শিরোনাম
হোম / জাতীয়
রিপোর্টার : অনলাইন ডেস্ক

আইএমএফ এর ঋণচুক্তি বাতিল করে দিয়েছি- অর্থমন্ত্রী


আইএমএফ এর ঋণচুক্তি বাতিল করে দিয়েছি- অর্থমন্ত্রী

প্রিন্ট ভিউ

রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, আইএমএফ এর আর কোনো শর্ত মানবে না বাংলাদেশ।

“আইএমএফ টাকা দেবে, বিশ্ব ব্যাংক টাকা দেবে–এটা ভুলে যান। আমি আইএমএফের প্রোগ্রাম ক্যানসেল করে দিয়েছি, আপনারা দেখেছেন। তাদের শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”

আর্থিক সংকট সামাল দিতে ২০২২ সাল থেকে কয়েক দফা আলোচনা শেষে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ। পরে অন্তবর্তী সরকারের সময়ে ঋণের অঙ্ক বেড়ে হয় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পায় বাংলাদেশ। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে।

ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের আলোচনা এক বছর আটকে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আইএমএফ এর ঋণের শর্ত নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়। আগের ঋণ থেকে বেরিয়ে নতুন ঋণ নেওয়ার জন্য আইএমএফ এর কাছে প্রস্তাব দেয় সরকার।

নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ারে প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে গত ৩ জুন আইএমএফ আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে বলে, বাংলাদেশ নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে।

তবে ঋণের অংক কত, তা নিয়ে কোনো তথ্য দেয়নি আইএমএফ। সেই ঋণের শর্ত ঠিক করতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র ও সংস্কার নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে মিশন পাঠায় আইএমএফ।

সেই আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেই রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আইএমএফের ঋণ চুক্তি বাতিল করে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। দাতা সংস্থার সাহায্য ছাড়াই ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি।”

মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংক, এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও আইএমএফ এর মত দাতা সংস্থার অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে চাইছে না সরকার।

অর্থায়নকারী আন্তর্জাতিক এসব সংস্থার উপর ‘নির্ভরতার দিন শেষ’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের ফাইন্যান্সিয়াল আর্কিটেকচার, পাবলিক ফাইন্যান্স আর্কিটেকচার এবং প্রাইভেট সেক্টরের ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা পরিবর্তন করছি। বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ টাকা দেবে আর আমরা দেশ চালাব—এটা আর হবে না।”

ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণের বদলে কম খরচে অর্থ পেতে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ক্যাপিটাল মার্কেট ইজ দ্য আন্সার, বন্ড মার্কেট ইজ দ্য আন্সার।”

ভবিষ্যতে অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থ গ্রহণে পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, পদ্মা সেতু, যমুনা সেতুকেও পুঁজিবাজারে আনার প্রক্রিয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আই অ্যাম গোয়িং টু দ্য মার্কেট, আই অ্যাম গোয়িং টু গেট মাই মানি।”

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার ‘আন্তরিকভাবে কাজ করছে’ মন্তব্য করে আমির খসরু বলেন, “এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তা বলতে পারব না।”

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারকে এ অঞ্চলের অন্য বাজারগুলোর সঙ্গে তুলনীয় পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

“আগামী ১২ মাসে দেশের পুঁজিবাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। পুঁজিবাজারের সংস্কারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে চলছে। কনভার্টিবল বন্ড, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি), ইক্যুইটি স্টক অপশন এবং স্থানীয় মুদ্রায় বন্ডের মত নতুন পণ্য নিয়ে আলোচনা চলছে।”

এসব পণ্য চালু হলে বিনিয়োগের সুযোগ বেড়ে বাজার আরো গভীর হবে বলে মনে করেন তানভীর গনি।

অনুষ্ঠানের আয়োজক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, “তিন মাসের মধ্যে আমরা আইপিও অনুমোদন দেব। আমাদের টাইম হচ্ছে তিন মাস। তিন মাসের মধ্যে আমরা আইপিও অনুমোদন করবই।

“আইপিও আবেদনের পর অনুমোদন পেতে যে দীর্ঘ সময় লাগে, নতুন প্রক্রিয়ায় তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হবে।”

গত আড়াই বছর ধরে বাজারে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। সেই খরা আর বেশিদিন ‘চলতে দেওয়া যায় না’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুঁজিবাজারের সংস্কারের অংশ হিসেবে বেক্সিমকো লিমিটেডের পর্ষদ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের বর্ণনা দিয়ে মাসুদ খান বলেন, “কমিশনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।”

প্যানেল আলোচনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে যত ধরনের সংস্কারই করা হোক না কেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বীউনিক) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়

আরও পড়ুন