• ঢাকা
  • বৃহঃস্পতিবার , ১ অক্টোবর ২০২৬ , রাত ০৩:৩৪
শিরোনাম
হোম / সারাদেশ
রিপোর্টার : আশীষ সাহা কসবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

জ্বর হলেই কি ডেঙ্গু? ভাইরাস জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বর চেনার উপায় জানালেন চিকিৎসক


জ্বর হলেই কি ডেঙ্গু? ভাইরাস জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বর  চেনার উপায় জানালেন চিকিৎসক

প্রিন্ট ভিউ

দেশজুড়ে বর্তমানে ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বাড়ার পাশাপাশি ডেঙ্গুর সংক্রমণও দেখা দিয়েছে। জ্বর, সর্দি, কাশি, শরীর ব্যথাসহ বেশ কিছু উপসর্গ দুই রোগের ক্ষেত্রেই দেখা দেওয়ায় অনেকেই বুঝতে পারছেন না—এটি সাধারণ ভাইরাস জ্বর, নাকি ডেঙ্গু।

এ অবস্থায় জ্বরের কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ভাইরাস জ্বর ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপও রয়েছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক রোগীকে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।
 
ফাতেমা খানম (৩৮) নামক এক শিশুর মা বলেন, আমি প্রায় তিন ঘন্টা যাবত অসুস্থ বাচ্চা নিয়ে অপেক্ষায় আছি এ হাসপাতালে এতো রোগী মনে হয় না তাড়াতাড়ি দেখাতে পারবো, আমি কর্নেলবাজার থেকে এসেছি আমার বাচ্চা নিয়ে শুনেছি এ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অনেক ভালো। 

 আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হিমেল খান বলেন, একজন ব্যক্তি একই সময়ে ভাইরাস জ্বর ও ডেঙ্গু—দুই রোগেই আক্রান্ত হতে পারেন। আবার রোগের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর কিছু উপসর্গ সাধারণ ভাইরাস জ্বরের মতো হওয়ায় শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ হলেও এর কিছু বৈশিষ্ট্য সাধারণ ভাইরাস জ্বর থেকে আলাদা। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক অবস্থায় জ্বরের সঙ্গে শরীর ও মাথাব্যথা এবং চোখের পেছনে ব্যথা দেখা দিতে পারে। কয়েক দিন পর শরীরে লালচে র‍্যাশও দেখা দিতে পারে।

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে গেলে রক্তক্ষরণসহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। নাক দিয়ে রক্ত পড়া, কালো পায়খানা হওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অন্যান্য বিপজ্জনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তাছাড়া তিনি  আরও বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ প্রতিরোধে এডিস মশার বিস্তার রোধ করা জরুরি। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, জ্বর হলেই আতঙ্কিত না হয়ে রোগীর উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করা, পর্যাপ্ত তরল খাবার দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গুর আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

হাসপাতালের শিশু রোগীর চিকিৎসক 
ডা. অনুপ সাহা বলেন, ভাইরাস জ্বরে অনেক সময় টানা ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ১০২ থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর থাকতে পারে। জ্বর কমে গেলেও তা সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নাও নামতে পারে। তাই জ্বর শুরু হওয়ার পর এক-দুই দিনের মধ্যে না কমলে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।তিনি বলেন, ভাইরাস জ্বরে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না, যদি না অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের উৎস পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণের উৎস শনাক্ত হতেও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

জ্বরে আক্রান্ত শিশুরা অনেক সময় খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। এ সময় জোর না করে অল্প অল্প করে পানি, তরল খাবার, জাউ, স্যুপ বা শরবত খাওয়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। তবে এমন খাবার দেওয়া উচিত নয়, যাতে বমি বা পাতলা পায়খানা আরও বেড়ে যায়।ডা. আরও বলেন, শিশুর প্রস্রাবের পরিমাণের দিকেও নজর রাখতে হবে। ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চারবার প্রস্রাব হচ্ছে কি না তা খেয়াল করা জরুরি। মুখে একেবারেই খাবার বা তরল নিতে না পারা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, বারবার বমি হওয়া কিংবা খিঁচুনি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত।
হালকা জ্বরের ক্ষেত্রে শরীর মুছে দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের ওষুধ দেওয়ার কথা জানান তিনি। একই ওষুধের পরবর্তী ডোজ দেওয়ার আগে নির্ধারিত সময়ের ব্যবধান বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্য

আরও পড়ুন